মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়

ইউকিপিডিয়ার মতে পরকীয়া (ইংরেজি: Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) হল বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ড। মানবসমাজে এটি লঘু বা গুরুভাবে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য পাশ্চাত্য আধুনিক সমাজে এর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলেও এটি আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না, তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারেন।

তবে কিছু ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা হল পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড প্রদান। মনোচিকিৎসায় একথা স্বীকৃত যে, পিতামাতার পরকীয়া সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এবং সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সন্তানের মানসিক বিষন্নতার ও আগ্রাসী মনোভাবের জন্ম দেয়। এছাড়া পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে পরকীয়া প্রভাব রাখে ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড অ্যাডোলসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন –

“মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। প্রথমে আসে দৈহিক বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কে অতৃপ্তি থেকে অনেকে এ সম্পর্কে জড়ায়। সেক্স মানুষের একটি শরীরবৃত্তীয় চাহিদা। যদি স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবন দুর্বল হয়, তাহলে অপর ব্যক্তির প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে। কারো মধ্যে যদি DRD4 জিনের উপস্থিতি বেশি হয়, তাঁদেরও পরকীয়া বা বাড়তি সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা থাকতে পারে।

অনেক সময় মানসিক সমস্যার কারণেও মানুষ পরকীয়ায় জড়াতে পারে। যাঁদের মধ্যে বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার আছে, তাঁদের পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। তাঁরা কোনো কিছুর মধ্যে স্থিরতা খুঁজে পায় না।

সঙ্গীর উদাসীনতা ও দূরত্বের কারণেও অনেক সময় মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী বাস্তবতার কারণে, কাজের কারণে হয়তো দূরে চলে যায়। তখন তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার আগ্রহ বাড়ে। অনেক সময় পশ্চিমা সংস্কৃতির ধাঁচ নিজেদের মধ্যে আনতে চায়, তখন পরকীয়া বাড়ে। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, দূরত্ব ইত্যাদির জন্যও অন্যের প্রতি আগ্রহ, আসক্তির ঘটনা ঘটে”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজির আহম্মদ তুষার বলেন –

“প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে পরকীয়ার বিষয়টি চলে আসছে। উন্নয়ন ও মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মানুষ একগামী। তবে মানুষ মূলত বহুগামী। পরকীয়াতে যেকোনো একজনকে বিবাহিত হতে হবে অথবা দুজনই বিবাহিত থাকতে পারেন”।

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায় –

এ বিষয়ে তানজির আহম্মদ বলেন – “এক ধরনের প্রয়োজন বা চাহিদার কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। অনেক সময় শারীরিক প্রয়োজন থাকে। আর্থিক প্রয়োজন থাকে। স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্যও কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়ায়। অনেক সময় মানসিক প্রয়োজন থাকে। আবার কিছু বিষয় শেয়ার করতে করতে অনেকে একসময় পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়।

অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে, আবার অনেক সময় অবস্থার কারণেও হয়তো পরকীয়ায় জড়ায়। হতে পারে একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে গেল। একপর্যায়ে হয়তো ভালো লেগে গেল। তখনও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আবার দীর্ঘসময় একসঙ্গে কাটাতে কাটাতে, বন্ধুত্ব থেকেও অনেক সময় পরকীয়া হয়ে যায়। অনেকে শখ থেকেও পরকীয়ায় জড়ায়।

অন্য আরেকটি শরীর কেমন, একে জানার একটি আগ্রহ থাকে। অনেকে আবার ভাবে, ‘ওরা কি সুখী! এই মানুষটির সঙ্গে থাকতে পারলে হয়তো আমার অনেক সুখ লাগত।’ এ থেকেও অনেকে ওই ব্যক্তির প্রতি আগ্রহ অনুভব করে। অনেক সময় মিডিয়াও পরকীয়ার প্রবণতা তৈরি করে। বিভিন্ন ধরনের পর্নোসাইট দেখে পরকীয়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। আসলে অধিকাংশ মানুষেরই একটি বাড়তি চাহিদা থাকে। তবে সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়মনীতির কারণে এ সম্পর্কে জড়ায় না। অনেকে কিছু সুবিধা আদায়ের জন্য পরকীয়া করে জানিয়ে তিনি বলেন, হয়তো আর্থিক সাহায্য পাবে এ সম্পর্কে জড়ালে, এমন ভাবনা থেকেও কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়ায়”।

সাইকোলজিস্ট ইশরাত জাহান বীথি বলেন –

“পরকীয়ার পেছনে জড়ানোর একটি বড় কারণ হলো শূন্যতা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন শূন্যতা তৈরি হয়, তখন আরেকজন সেখানে প্রবেশ করে। হয়তো স্বামী বা স্ত্রীর আর আগের মতো করে কথা বলে না বা আদর করে না। যত্ন কম নেয়। এই বিষয়গুলোর কারণে অন্যের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। স্বামী-স্ত্রী দূরে থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে। মেয়েদের বিয়ের আগে হয়তো যৌন চাহিদা তেমন থাকে না। বিয়ের পর তাঁরা বুঝতে পারে বিষয়টি। শুধু যৌনতায় অংশগ্রহণ নয়, কথাবার্তায়ও বিষয়টি থাকতে হয়। তখন যদি অন্য কেউ সেই কথাগুলো শোনায়, তাহলে তাঁর প্রতি আগ্রহ কাজ করে।

শারীরিক গঠন এ ব্যাপারে কাজ করতে পারে। কিছু কিছু ছেলে চিকন স্বাস্থ্যের মেয়ে পছন্দ করে। আবার কিছু কিছু ছেলে হয়তো একটু স্থুল স্বাস্থ্যের মেয়ে পছন্দ করে। সন্তান হওয়ার পর অনেক মেয়ে স্থুল হয়ে যায়। এতে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। আবার নারীর বেলায়ও অনেকে হয়তো খুব হ্যান্ডসাম ছেলে পছন্দ করে, যা হয়তো তাঁর স্বামীর সঙ্গে মেলে না।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোট ছোট চাওয়াগুলো হয়তো পূরণ হচ্ছে না। হয়তো স্ত্রী চাঁদ দেখতে পছন্দ করে, স্বামী সেটিকে বিলাসিতা মনে করে। এ রকম সময় অন্য কেউ যখন সেই জায়গায় আসে, তখন নির্ভরতা বেড়ে যায়। আবার অনেকে ভাবে, আমি তো একসঙ্গে দুটোকেই ব্যালেন্স করছি। তাই আমি এমন একটি সম্পর্ক করতেই পারি।

আবার অনেকে মনে করেন, স্বামী বা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও খুব ভালো একজন বন্ধু অথবা বান্ধবী থাকতে পারে। যার সঙ্গে মানসিক শেয়ারিং ও শারীরিক সম্পর্ক—দুটো বিষয়ই থাকতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। কারণ, বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো প্রতিজ্ঞা নেই। যে কেউ যেকোনো সময় হয়তো এখান থেকে সরে আসতে পারে। একে অনেকে পরকীয়া বলে মনে করে না।

আবার অনেকে বিবাহবিচ্ছেদের পর বৈবাহিক সম্পর্কে জড়াতে চায় না। বিবাহিত কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে নিজের চাওয়াগুলো পূর্ণ করতে চায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজন মেটানোর বিষয়টিই এখানে মুখ্য হয়। এসব ভাবনা ব্যক্তিকে পরকীয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে বলেই মনে করেন ইশরাত শারমীন রহমান।”

বিচ্ছেদের কষ্ট দূর হবে যেভাবে

স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সহজ নয় আবার ইচ্ছা শক্তি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সম্ভব। অতীত ভুলবার অথবা কষ্ট দূর করার জন্য আমাদের উচিত নিজেদের একটি চক্রে আবদ্ধ করা, আর সে চক্রে আমাদের কিছু বিষয় সাজাতে হবে যা আমরা করবো নিজেকে ভালো রাখার জন্য –

নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন- জোর করে কোন সম্পর্ক টিকে রাখা যায় না। ভালোবাসা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা ছেড়ে দিতে হয় আটকে রাখতে হয় না, এ সত্য আপনাকে মেনে নিতে হবে। শুরুতে অনেক কষ্ট হলেও এটা ভাবুন যা হয়েছে তা ভালো কিছুর জন্যই হয়েছে। নিজের জীবনকে নতুনভাবে কল্পনা করুন। ভালো আছেন এরকম ভান বা অভিনয় করবেন না, আবেগ চাপা রাখলে আপনার মানুসিক চাপ বাড়বে তাই শোক করুন, কাদুন।

পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন- পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন করে নিজেকে তৈরি করুন। কেননা, নিজেকে অতীতে আটকে রাখলে বর্তমান পরিস্থতি থেকে আপনি সহজে নিজেকে পরিত্রাণ করতে সক্ষম হবেন না। সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে কোথাও ঘুরেছেন, ভাল সময়গুলো দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন এমন পরিবেশগুলো ত্যাগ করুন ও নতুন জায়গাগুলোতে ঘুরে আসুন, নতুন পরিবেশে সময় কাটান। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহায়তা নিন, কান্না করুন, ক্রোধ প্রকাশ করুন, নিজকে হালকা করুন।

অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না- কেন আমার সঙ্গে এমন হলো বা সম্পর্ক কেন টিকলো না? সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এরকম প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় ঘোরে। এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন। প্রাক্তনের দেয়া পুরোনো চিঠি-গিফট ফেলে দিন, ই-মেইল, মেসেজ, ছবি ইত্যাদি ডিলিট করুন। পরিচিত কারো কাছ থেকে প্রাক্তন সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন না। সে কেমন আছে, আপনাকে কি মনে করে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কি আবডেট দিচ্ছে তা স্টক করা থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিশোধ নেবেন না- ক্ষমা করতে শিখুন। যদি মন থেকে ক্ষমা করতে নাও পারেন তবুও প্রতিশোধ নেবেন না বা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে রাগের মাথায় এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় অথবা আপনি কোনভাবে আইনের জটিলতার পরিস্থিতিতে পরেন।

প্রাক্তন সম্পর্কে কোন প্রকার মন্ত্যব্যে করবেন না- অনেকেই বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে বা আবেগপ্রবণ কথা লিখতে থাকেন। তারা ভাবেন, এতে ওই ব্যক্তিটি হয়ত ফিরে আসবে অথবা অপদস্ত হচ্ছে। এই কাজটি ভুল। এতে আপনার দুর্বল ব্যক্তিত্বের প্রমান পায়। এটি একেবারেই করবেন না। খুব কষ্ট লাগলে ডায়েরিতে নিজের মনে যা আছে তা লিখুন এতে আপনি কিছুটা হলেও হালকা হবেন।

হয়তো ফিরে আসবে- প্রাক্তন ফিরে আসবে। কোন এক সময় হয়ত ফিরে পাবেন এরকম চিন্তা বা অযথা অপেক্ষা করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। পুনরায় সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখুন। ভিক্ষার মত ভালোবাসা ফেরত চাইবেন না। এতে আপনিই ছোট হচ্ছেন তাই কষ্ট হলেও নিজেকে অন্তত ছোট করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন। আপনার ভালো লাগা কাজগুলো করুন যেমন- শপিং করা, কারও বাসায় ঘুরতে যাওয়া, মুভি দেখা, পরিবারের সাথে সময় কাটান, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটান ইত্যাদি।

যোগাযোগ বন্ধ করুন- ‘বন্ধু’ হয়ে থাকব, এই চিন্তা করবেন না। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে পারে, কিন্তু প্রেম থেকে নেমে বন্ধুত্বে আসা সম্ভব নয়। তাই যথাসাধ্য অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখুন। মুঠোফোন, ফেসবুক, ই-মেইল, হোয়াটস অ্যাপসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিন। হয়তো তীব্র ইচ্ছে হবে যোগাযোগ করার, সে বিষয়ে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। একাকীত্ব পূরণের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটান, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের শরণাপন্ন হোন।

নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন- বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিন যেমন – খেলাধুলা, বিতর্ক, পাবলিক স্পিকিং, লেখালেখি, স্টোরি টেইলিং, ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিন, জাম্পিং, ছবি বা ক্যনভাস আঁকতে পারেন, সাইক্লিং, সুইমিং, সামাজিক কাজগুলতে অংশ নিতে পারেন, বই পরতে পারেন, রান্না শিখতে পারেন, ব্যবসায় অথবা চাকরিতে নিজে কে ব্যস্ত রাখতে পারেন। বাগান করতে পারেন, পছন্দের পোষা প্রাণী পালতে পারেন। গান শুনুন- তবে প্রাক্তন কে মনে করিয়ে দিতে পারে এমন গান নয় মন প্রফুল্ল করে এমন গান শুনতে হবে। মটিভেশনাল বা কমেডি মুভি, নাটক, কন্টেন্ট ভিডিও দেখতে পারেন।

নিজের প্রতি যত্ন নিন- বিচ্ছেদের পর অনেকেই অতীতের ভাবনায় নিজের প্রতি যত্ন নিতে ভুলে যায়। এ কঠিন সময়ে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। ফলে কেউ কেউ আত্মহত্যার কথা ভেবে থাকেন অথবা শরাপন্ন হন। আবার অনেকের শরীর খারাপ বা অসুস্থ থাকে তাই অবশ্যই আপনার দেহ ও মনের আত্মার পরিচর্যা করুন । নিজের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে জিমে অথবা বাসায় এক্সারসাইজ করুন, ইওগা করুন, কাউন্সিলিং করুন। রুপ চর্চা করুন। সকালে বা বিকালে হাঁটতে বের হন, যতদিন অতীত ভুলতে পারছেন না ততদিন কাউন্সিলিং বন্ধ করবেন না। অনেকে মাদকাসক্ত বা বাজে নেশায় চলে যায় এটা করা একেবারেই উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ওষুধ খেতে পারেন।

নিজেকে একা করে ফেলবেন না- নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে রাখবেন না কেননা একা থাকলে আপনাকে একাকীত্ব গ্রাস করবেই। এই সময় এমন কারও সঙ্গে কথা বলুন, যাকে নির্দ্বিধায় আপনি সমস্ত কথা খুলে বলতে পারবেন এবং সেও আপনার সমস্ত কথা গোপন রাখবে। এ সময়ে আপনাকে অনেকেই ইতিবাচক – নেতিবাচক কথা বলে থাকবে। অন্যের কথায় নিজেকে হীনমন্য না ভেবে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। নিজের ভালো দিকগুলো ও সফলতাগুলো গড়ার চেষ্টা করুন। আদর্শ মানুষের সঙ্গ অবলম্বন করুন এবং আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে সময় কাটান।

জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন না- আপনি মাথায় এটা আনবেন না যে আমার তাকে ভুলে যেতেই হবে। প্রাক্তন কে ভুলে যেতে তার সাথে বাজে অভিজ্ঞতাটি মনে করুন। কাউকে ভোলার চেষ্টা করলে তাকে আরও বেশি মনে পড়ে। তাই কাউকে জোর করে ভুলতে চেষ্টা করবেন না।

অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন- অতীত নিয়ে আফসোস না করে এটা আপনার জীবনের একটা শিক্ষণীয় অধ্যায় ভাবুন। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে বাস্তবতা মেনে নিতে আপনি এখন শিখে গেছেন তাই আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন। সামনে কোন বাধা আসলে আপনি নিজেকে শক্ত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন এরকম আস্থা নিজের প্রতি তৈরি করুন দেখবেন আপনার সামনে এগিয়ে চলার পথ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

সঙ্গীকে ঠকিয়েছেন, মানাবেন কী করে?

সঙ্গীর কাছে ধরা পড়ে গেছেন।  তিনি টের পেয়েছেন, বিগত কয়েকদিন ধরে আপনি অন্যকোনও পুরুষ/মহিলার সঙ্গে জড়িত। তাঁর অনুমান, আরও অনেক দূর হয়তো গড়িয়েছে বিষয়টি। সবকিছু জানাজানি হওয়ার পর সঙ্গী বাক্যালাপ বন্ধ করেছেন। ঘোষণা করেছেন বিচ্ছেদ। এমন অবস্থায় নিজেকে অপরাধী মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু তার চেয়েও বেশি যে বিষয়টি আপনাকে অহোরাত্র দুঃখ দিয়ে চলেছে, তা হল সঙ্গীর অভিমান, আপনার প্রতি তাঁর ঘৃণা ও বিদ্বেষ। সঙ্গীকে ফের জীবনে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনি এখন মরিয়া।

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে গিয়ে ভাবুন। ভালো করে খতিয়ে দেখুন, আপনাদের সুখের জীবনে তৃতীয় ব্যক্তি এল কেন? ফাঁক তৈরি হল কেন? দোষত্রূটি কার কতখানি, তার চেয়েও বেশি জানা দরকার আপনি এখন ঠিক কী চাইছেন? এতকাল যে সঙ্গীর অপূর্ণতা পূরণ করতে আপনি অন্য সঙ্গীর সান্নিধ্য খুঁজছিলেন, সেই সাধ আপনার মিটেছে কিনা। যদি মিটে গিয়ে থাকে, কি নিশ্চয়তা আছে, ফের এমন ভুল আপনি করবেন না?

প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালো করে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। ক্ষণিকের জন্য সঙ্গীকে ফিরে পেতে চাইলে, সেটা তাঁর প্রতি অন্যায় করা হবে। নিজের মন শক্ত করুন। সঠিক সিদ্ধান্তে আসুন। সঙ্গীর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ছাড়াছাড়ি করতে চাইলে, তাঁকে বরাবরের মতো মুক্ত করে দিন। তাঁকে তাঁর মতো বাঁচতে দিন। আপনার সঙ্গে বিচ্ছেদে যদি তিনি সুখ খুঁজে পান, তবে তাই মেনে নিন। নিজের ইচ্ছে তাঁর উপর চাপিয়ে দেবেন না।

আর যদি আপনি সঙ্গীকে আগের মতো ফেরত চান, লোকলজ্জার ভয় নয়, কোনও আর্থিক কারণে নয়, শুধু ভালোবাসার কারণে, তবে কয়েকটি বিষয়ে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে।  যেমন-

১) কখনও কান্নাকাটি করবেন না। মনে রাখবেন, সঙ্গী আপনার উপর বিরক্ত। এই সময় চোখের জল ফেললে, সেই অশ্রুকে তিনি মনে করতে পারেন কুমিরের কান্না।  তাই একদম কান্নাকাটি নয়।

২) মতো আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিতে পারেন। তাই তাঁকে নিজেকে সামলানোর সময় দিন।

৩) সোশাল মিডিয়ায় কোনও কিছু পোস্ট করবেন না। নিজের মন খারাপের কথা একেবারেই শেয়ার করবেন না। এইসব দেখলে সঙ্গী হয়তো আরও রেগে যেতে পারেন।

৪) যে ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণে আপনার বিচ্ছেদ, সেই ব্যক্তির সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখবেন না। তাঁকেও খোলাখুলি বলে দিন আপনি কী চাইছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাউকেই অন্ধকারে রাখা ঠিক নয়।

৫) মনের দুঃখ সামলাতে অন্য কোনও পুরুষ/নারীর সঙ্গে সাময়িক সম্পর্কে জড়াবেন না। কেননা, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। হতেই পারে দূর থেকে সঙ্গী আপনার উপর নজর রাখছেন। বোঝার চেষ্টা করছেন আপনার গতিবিধি। কার সঙ্গে মিশছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন, সবেরই হয়তো খবর রাখছেন তিনি। ফলত, সাময়িক সম্পর্কে জড়ানোর ঘটনাও তাঁর অজানা নয়। আপনার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে তাঁর। শেষ ভালোলাগা টুকুও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬) নিজের মনটাকে শান্ত করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। দরকার হলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ কারোর সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। বা কোনও প্রিয় বন্ধু/বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।  কোনও কমন ফ্রেন্ড থাকলে বিষয়টা তাঁকেও বলতে পারেন। কমন ফ্রেন্ড এই সব ব্যাপারে দেবদূতের ভূমিকা পালন করেন মাঝেমধ্যে। যেহেতু তিনি আপনাকে ও আপনার সঙ্গীকে ভালো করে চেনেন, আপনার সঙ্গীর মনোভাব কী, জানতে সুবিধে হতে পারে।

৭) সঙ্গীও যদি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আপনাকে আরও একটা সুযোগ দিয়ে দেখবেন, তবে সেইদিনটার জন্য অপেক্ষা করুন। দেখা হলে ঘাবড়ে যাবেন না। সাহসী মনোভাব প্রকাশ করুন।  যে ভুল আপনি করেছেন, সেটা নিজে মুখে স্বীকার করুন। সরি বলুন। বলুন, আপনার ভুল হয়েছে, ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর কোনওদিনও হবে না। দেখবেন, সঙ্গীরও আপনার উপর সব অভিমান মুছে গেছে।