বিয়ের পরে ভালোবাসা কি আগের মত সতেজ থাকে!

রোমান্সের ব্যাপারে আমরা খোলামেলা আলোচনা না করলেও, আমরা সবাই স্বীকার করি যে দাম্পত্য সুখের জন্য রোমান্সের গুরুত্ব অনেক। যারা নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিয়ের প্রথম দিনের যে অনুভূতিটা পাচ্ছেন ঠিক প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পর্যন্ত সেই একই রকম অনুভূতি পাওয়ার জন্য সম্পর্ককের যত্ন করতে হবে, বিষয়টা বলতে যতটা সহজ, মেনে চলা বেশ কঠিন।

বিয়ে করা মানে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাওয়া নয়।  বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে সতেজ রাখাটা দম্পতি দুজনের উপরই নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিয়ের পর কিছু সময় পার হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনের রোমান্স কমতে থাকে।  বিশেষ করে বিয়ের পর বাবা, মা হওয়ার পর এই প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এরকম অবস্থা সৃষ্টিতে সঙ্গী একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকে।

বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে জীবিত রাখতে রোমান্স কে কি ভাবে কাজে লাগাবেন সে বিষয়ে ছোট একটা আলোচনা করা হলোঃ

বিয়ের পরের ডেটিং :  বিয়ের আগে যেভাবে একে অন্যের সাথে সময় কাটাতেন ঠিক বিয়ের পরেও চেষ্টা করবেন অন্তত মাসে একবার হলেও দুজনে বাহিরে কোথাও একান্ত সময় কাটাতে এতে করে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা উচ্ছল থাকবে।

উপহার দিনঃ  সঙ্গীকে কোন কারন ছাড়াই প্রায়ই উপহার দিয়ে চমকে দিন এতে সঙ্গী অনেক খুশী থাকবে।  ফলে দুজনের মধ্যের ভালোবাসা অটুট থাকে।

সঙ্গীকে প্রশংসা করুনঃ আপনার জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তার প্রশংসা করুন যেমন- দিন শেষে স্ত্রীকে তার সারা দিনের কাজের জন্য প্রশংসা করতে পারেন, সাথে বলতে পারেন যে তাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পেয়ে আপনি অনেক গর্বিত। এরকম প্রশংসা সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় এক সাথে কাটানঃ সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরে দুজন একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে রাখবেন একসাথে সময়টা কাটানোর, এই সময়টা গল্প করে বা নিজেদের পছন্দের কোন গেম খেলে কাটাতে পারেন।

ঘর সাঁজানোর জন্য দুজনে মিলে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ নিজেদের শোবার ঘর নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনা অনুসারে দুজনে মিলে কাজ করুন এতে একসাথে সময় কাটানো হবে মনও প্রফুল্য থাকবে, ভালোবাসার বৃদ্ধি হবে।

ছোট খাটো মনোমালিন্যতা কে মজার ছলে উড়িয়ে দেওয়াঃ দম্পতিদের মধ্যে যদি কোন মনোমালিন্যতা সৃষ্টি হয় তবে বিভিন্ন মজা ছলে বিষয়টাকে স্বাভাবিক করতে হবে।আরো অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে সহজে বিবাহিত জীবনের রোমান্স কে সারা জীবন একই রকম রাখা যায়, তবে চেষ্টাটা দুজনকে সমান ভাবে করতে হবে। একতরফা চেষ্টায় ভালোবাসা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে টিকে থাকেনা।

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভাঙতে পারে এ সাত কারণে

কারো সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কী করা যাবে ও করা যাবে না, তার একটা সাধারণ তালিকা আছে। আপনার আচরণে যদি নিচের বিষয়গুলো বেশি থাকে, তাহলে ধরে নিন আপনার সম্পর্ক শীঘ্রই ভাংছে।

১. খুতঁখুঁতে স্বভাব
খুঁতখুঁতে স্বভাব কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে লাল পতাকার মতো কাজ করে। আপনি যদি সবকিছুতেই খুঁত বের করেন তাহলে তা হতে পারে সম্পর্ক ভাঙার কারণ। আপনার সঙ্গীর পরিধেয় কাপড়, কথাবার্তা কিংবা দৈনন্দিন বিষয়ে সমালোচনা ও খুঁত খোঁজার ফলে ধারণা হতে পারে তার উপস্থিতি আপনার সহ্য হচ্ছে না। হতে পারে তার অনেক কিছুই আপনার মনের মতো নয়। তার মানে এই নয় যে, তার সব বিষয়ে পরিবর্তন আনার অধিকার সে আপনাকে দেবে। তার অদ্ভুত বন্ধুদের দূরে সরানো কিংবা রাত-দিন ভিডিও গেম খেলা বন্ধ করা– এসব অসংখ্য বিষয়ে চাপ না দেয়াই ভালো। মনে রাখবেন, সব বিষয়ে তাকে বিরক্ত করবেন না।

২. কাজই আপনার জীবন
আপনার চাকরি কিংবা কাজ নিঃসন্দেহে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনার সব বিষয়ের মধ্যমণি হিসেবে এ কাজকে রাখবেন না। কাজে তার কোনো জরুরি সাহায্য দরকার না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো। কাজের জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তারিখ মিস করা কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে থাকার সময়েও অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকা নিঃসন্দেহে তার জন্য বিরক্তিকর। এতে সঙ্গীর মনে হতে পারে তার সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে আপনার কাছে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরামর্শ হচ্ছে, কাজের সময় কাজ। সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর সময় দূরে সরিয়ে রাখুন কাজ।

৩. আপনার ঘোড়া সামলান
কারো সঙ্গে ডেটিং শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিতে যাবেন না। অপেক্ষা করুন। স্রোতের সঙ্গে ভাসার চেষ্টা করুন। পরিচয়ের পরের দিনই আপনার পিতা-মাতার সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। আগে আপনার মতামত তাকে জানান, তার মতামত জানুন। সে যদি আগ্রহী হয়, সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলেই কেবল অগ্রসর হোন, নাহলে তাকে যেতে দিন।

৪. অতিরিক্ত ছেলেমানুষি
প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনি একজন দারুণ আকর্ষণীয় মানুষ বলা যেতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় প্রতিনিয়ত আপনার নতুন সঙ্গীকে বলতে যাবেন না। এতে সে বিগড়ে যেতে পারে। সবকিছু একসঙ্গে না জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু সংরক্ষণ করে রাখুন।

৫. বিশ্বাসহীনতা
কোনো সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসকে ‍বুঝতে দিন। আপনি যদি ক্রমাগত সে কার সঙ্গে আছে, কার সঙ্গে কথা বলছে এসব নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে সম্পর্কের বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। এভাবে ক্রমাগত ডুবতে থাকলে আপনি কাজি অফিস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন না।

৬. নিজের ছিদ্রগুলো দেখিয়ে দেয়া
আপনার বস আপনাকে ঘৃণা করে, আপনার বন্ধুরা হিংসা করে, আপনার বাবা-মা কোনো দাম দেন না, আপনি মোটা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা করবেন না। নিজের সব দুর্বলতা আপনার সঙ্গীর কাছে প্রকাশ না করাই ভালো। কোনো সঙ্গীই এসব বিষয় শুনতে পছন্দ করে না। তার বদলে সুখী ও ইতিবাচক বিষয় শুনতেই সবাই পছন্দ করে।

৭. খোলা রাখুন দরজা
আপনি যদি অন্য কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যান, তাহলে পুরনো সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে যাওয়াই ভালো। এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মাথায় রাখতে হবে, নিজের ক্ষেত্র ছাড়া আপনার সঙ্গীর ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ 

বিয়েটা হলো মা-বাবার অমতে…

Couple-in-Loveবাড়ির সবচেয়ে ছোট, শান্ত আর চুপচাপ কলেজপড়ুয়া মেয়েটি একদিন হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন। খোঁজ করতে করতে তাঁর ঘরে পাওয়া গেল সাবেক গৃহশিক্ষকের লেখা একতাড়া চিঠি, যার কোনো কোনোটিতে এ রকম একটি ঘটনার পরিকল্পনার আভাস। কী ঘটেছে, তা নিয়ে আর সন্দেহ রইল না কারও। মা শয্যাশায়ী হলেন। বাবা লাইসেন্স করা বন্দুক নিয়ে চেঁচাতে লাগলেন। এমন লক্ষ্মী একটা মেয়ে এমন কাজ করতে পারে, বিশ্বাসই করলেন না বড় ভাইয়েরা। কাজেই সব দোষ গিয়ে পড়ল বেচারা গৃহশিক্ষকের ওপর। তাঁর নামে অপহরণের মামলা হলো, প্রভাব খাটিয়ে থানায় ধরে আনা হলো। কিন্তু মেয়ে সাবালক এবং স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে গেছে প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ তাঁকে ছেড়েও দিল। কিন্তু ভাইয়েরা ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তাই একদিন রাস্তায় মেয়ের ভাইয়েরা মারধর করলেন প্রেমিকপ্রবরকে। পালিয়ে বিয়ের সাধ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য হাত-পা প্রায় ভেঙেই দিলেন। বর্ণনা করছিলেন ঘটনার নায়ক নিজেই। ২০ বছর আগে মফস্বল শহরের বেচারা গৃহশিক্ষক আর বর্তমানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। সে যে কী সময় গেছে! হ্যাঁ, এখন দুই পরিবারের সবাই বিষয়টা মেনে নিয়েছেন বটে, বড় ভাইয়েরা বোনজামাইকে যথেষ্ট ভালোবাসেন এখন; কিন্তু সেই মারের দাগ এখনো হাঁটুতে রয়ে গেছে।

হুট করে কাউকে না জানিয়ে পরিবারের অমতে বিয়ে করে ফেলা সেই রোমিও-জুলিয়েটের আমল থেকে শুরু করে এখনকার দিনেও ঘটছে। কখনো কখনো দুই পরিবারে এমন ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয় ভয়াবহ। কেবল সদ্যবিবাহিত ছেলেমেয়ের ওপর তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন তা নয়, কখনো কখনো তাঁরা নিজেরাও জড়িয়ে পড়েন নানা কোন্দল, মারামারিতে—এমনকি রক্তপাতও দেখা যায় এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

বিয়ে মানে কেবল দুটি ছেলেমেয়ের নয় বরং দুটি পরিবারের বন্ধন। বিয়ের আগে-পরে দুই পরিবারের নানা অনুষ্ঠান-আচার পালনের মাধ্যমে এই সম্পর্ক রচিত হয়। তাই হুট করে না জানিয়ে বিয়েতে এই প্রথা ও স্বাভাবিকতা ব্যাহত হয়। ফলে ভালোভাবে কেউই বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না। আর এসব ক্ষোভ আর ক্রোধ গিয়ে পড়ে সেই ছেলেমেয়ে দুটির ওপর। এক ভয়ংকর বৈরী সময় পার করতে হয় নববিবাহিত দম্পতিকে। কিন্তু এই ক্ষোভ যদি রীতিমতো জিঘাংসা আর নিষ্ঠুরতায় পরিণত হয়, তখন? সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি একটু মনে করিয়ে দিচ্ছি।

গত ১৮ জুন ঢাকার খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ মডেল কলেজের ছাত্রী মনিরা পারভীনকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন নাসির হোসেন। প্রথম দিন এক বন্ধুর বাড়িতে থাকলেও পরদিন পরিবারের আশ্বাসে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরই নাসিরের বাবা, চাচা ও অন্য আত্মীয়রা চড়াও হন মনিরার ওপর। নাসিরকে অন্য একটি ঘরে আটকে রেখে প্রচণ্ড মারধর করা হয় মনিরাকে। ইট ও কাঠ দিয়েও পেটানো হয়। গুরুতর জখম মনিরা ২২ জুন মারা যান। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ জুন)

আমাদের সমাজের দৃষ্টিতে ‘পালিয়ে বিয়ে করা’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু সেই অপরাধের শাস্তি কি ছেলে বা মেয়েটিকে একেবারে মেরে ফেলা? পরিবারের সম্মান কি একটা তরতাজা তরুণ প্রাণের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়ায়? প্রতিবেশী দু-একটি দেশে মেয়েদের প্রায়ই শিকার হতে হয় ‘অনার কিলিং’-এর। এই অনার কিলিং মানে আর কিছু নয়, পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে দোষী মেয়েটিকে হত্যা করা। মেয়েদের প্রাণ কি এই দুনিয়ায় এতই ঠুনকো আর সস্তা?

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন বলেন, সন্তানেরা যদি নাবালক হয়, তবে এই বিয়ে যে বৈধ হবে না এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে আপাতত বিষয়টা মেটানো যায়। দুই পরিবার একসঙ্গে বসে বিষয়টা মীমাংসা করতে পারে। আলোচনায় পরিবার ও পাড়ার মুরব্বিদেরও নেওয়া যায়। যদি তাঁরা সাবালক হন, তবে ধীরে-সুস্থে বিষয়টা মেনে নিয়ে কীভাবে একে সামাজিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু সহিংস হওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা, এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়। তাঁর সঙ্গে একমত জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী। তিনি বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর ও ছেলের বয়স ২১ বছর হলে আইন অনুযায়ী তাঁরা বিয়ে করতে পারবেন। এটি নিয়ে অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে ছেলের সম্পর্কে খোঁজখবর নিন। ছেলেটি মাদকাসক্ত, বিবাহিত ইত্যাদি সমস্যা থাকলে মেয়েকে বুঝিয়ে বলতে হবে।

 সবচেয়ে বড় কথা, বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলেমেয়েরা পরিবারের কারও সঙ্গে পরামর্শ বা আলোচনা না করার অর্থ হলো পরিবারে তাঁদের বন্ধুস্থানীয় কেউ না থাকা। তাই অভিভাবকদের উচিত, সন্তানের আরও কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করা, বন্ধুর মতো সবকিছু জানতে চেষ্টা করা, যাতে সন্তান অনাকাঙ্ক্ষিত ও হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত হুট করে না নেয়।

লিখেছেনঃ  তানজিনা হোসেন
প্রথম প্রকাশ – দৈনিক প্রথম আলো | জুলাই ০৩, ২০১৩

সন্দেহের ভূত…

সন্দেহের ভূত অনেকের মাথাতেই চেপে বসে। দাম্পত্যেই সাধারণত বেশি দেখা যায় এমন পরিস্থিতি। কখনো স্বামী, কখনো স্ত্রী মনে করেন যে তাঁর সঙ্গীর অন্য কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও তা বাস্তবে সত্য নয়। এই সন্দেহপ্রবণতাকে বলা হয় মরবিড জেলাসি, যার আরেকটি পোশাকি নাম ওথেলো সিনড্রোম। শেক্সপিয়ারের নাটকের চরিত্র ওথেলো এই সন্দেহের ভূতের কবলে পড়ে তাঁর স্ত্রী ডেসডিমোনাকে হত্যা করেছিলেন।

ভ্রান্ত বিশ্বাস, খুঁতখুঁতে মনোভাব থেকে এ সমস্যা হয়ে থাকে অনেকের। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। সাধারণত ব্যক্তিত্বের ধরন, পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব, আর্থিক অসংগতি, নিজের যৌন দুর্বলতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, মাদকে আসক্তি, মানসিক রোগ ইত্যাদি কারণে সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠে ব্যক্তি। সন্দেহের কারণে অতি উৎকণ্ঠা, বিষণ্নতা, খুঁতখুঁতে বা মারমুখী আচরণ, ঘুমের সমস্যাও দেখা যায়। সন্দেহ দিনের পর দিন চলতে থাকলে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল দেখা যায়, পারিবারিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সন্দেহভাজনকে হত্যা, সন্তান হত্যা, গুরুতর আঘাত বা আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

সন্দেহের বিষয়টি যখন বড় আকার ধারণ করে, তখন সেটাকে বলা হয় প্যারানয়েড ডিলিউশন। যাঁর মধ্যে এ সমস্যা থাকে, তিনি তাঁর সঙ্গীকে অবিশ্বাস করেন, বিশ্বাস করেন আশপাশের সবাই তাঁর ক্ষতি করতে চায়, কখনো মনে করতে পারেন তাঁর কাছের মানুষেরা তাঁর খাবারে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে ইত্যাদি। অপর দিকে ওথেলো সিনড্রোমের ক্ষেত্রে সন্দেহটি খুবই সুনির্দিষ্ট, সঙ্গীর অন্য কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের মধ্যেই সন্দেহ সীমাবদ্ধ।

সন্দেহের ভূত তাড়াতে:

দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে সাধারণ ভুল-বোঝাবুঝি বা সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টিকে বড় হতে না দিয়ে শুরুতেই তা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করুন।
আপনার সন্দেহটি সঠিক কি না, তা বারবার যাচাই করে দেখুন।
সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া সঙ্গীকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না, সন্দেহের ঘটনাটি তাঁর দিক থেকেও দেখুন।
সন্তানদের এই বিষয়ে জড়াবেন না।
গোপনে নজরদারি এড়িয়ে চলুন, গোয়েন্দার ভূমিকায় না থেকে বন্ধুর ভূমিকায় বিষয়টি জানার চেষ্টা করুন।
অধীনের কর্মচারী, কাজের লোক, গাড়িচালক বা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন না।
আপনাদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে তৃতীয় কেউ ষড়যন্ত্র করছে কি না, তা যাচাই করুন।
আপনি নিজে সন্দেহের শিকার হলে, সাময়িক সমাধানের জন্য মিথ্যা বলবেন না।
হঠকারী আচরণ এড়িয়ে চলুন।যদি মনে হয়, এটি সাধারণ ভুল-বোঝাবুঝির চেয়ে কিছু বেশি বা দুজনের কারও মধ্যে কোনো মানসিক সমস্যা রয়েছে, তবে দেরি না করে দ্রুত মানসিক রোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আহমেদ হেলাল (প্রথম আলো)