fbpx

অনলাইন মাধ্যমে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে

MASLOW এর চাহিদা অনুক্রম আনুসারে ভালোবাসা মানুষের মৌলিক চাহিদার গুলোর একটি। নিকট অতীতে এই চাহিদা মেটাতে অর্থাৎ জীবন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য নির্ভর করতে হতো পরিবার, আত্মীয় স্বজনের উপর অথবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের মাধ্যমে অথবা ঘটকের মাধ্যমে এবং সঙ্গী নির্বাচন করতেন আমাদের অভিভাবকেরা।  আধুনিক সময়ে আমরা আমাদের জীবন সঙ্গী নিজেই খুজে নেই, আর মাধ্যম হিসাবে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থান অথবা অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহৃত হয়।

বর্তমানে অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল পোর্টাল / ওয়েবসাইট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  ২০১৬ সালের একটা জরিপে দেখা গিয়েছে বাৎসরিক প্রায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। বর্তমানের মুঠো ফোন গুলোতে হাজারো ডেটিং ও বিয়ে প্রাসঙ্গিক অ্যাপ আছে যে গুলোর ব্যবহার করে খুব সহজে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যাবহার করে নিজের খেয়াল খুশী আনুসারে। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় বা কথা বলাটা অনেকে শুধু মজা হিসাবে নেয়। এজন্য সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহারে খুব সতর্ক হতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশেও সঙ্গী খোঁজ করার ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এর মধ্যে বিবাহবিডি ডট কম খুব জনপ্রিয় একটি অনলাইন মাধ্যম, এই মাধ্যমটির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কেননা বিবাহবিডি পাত্র/পাত্রী ও তাদের গার্ডিয়ান ভেরীফিকেশনের পাশাপাশি – একাডেমিক, জব/ বিজনেস আইডেন্টিটি, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, এনআইডি ও ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেশন ভেরিফাই সহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট ভেরিফাই করার পর প্রোফাইল একটিভ করে।

প্রতিনিয়ত অনলাইন মাধ্যম গুলোর ব্যাবহার যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে হঠকারীদের সংখ্যাও যাদের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবহারকারীদের ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা। অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে যে বিষয় গুলো জেনে নেওয়া উচিৎ, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো –

মিথ্যা তথ্য প্রদানঃ  নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে অনেকে নানা ধরনের মিথ্যা / তথ্য গোপন করে তথ্য প্রদান করে থাকেন।  অনলাইন মাধ্যম গুলোতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।  গ্লোবাল রিসার্চ এজেন্সির একটা গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ ভাগ ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে তারা প্রোফাইলে নিজ সম্পর্কে মিথ্যা বর্ননা দিয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে মেয়েরা বেশী মিথ্যা তথ্য দেয় বিশেষ করে মিথ্যাটা তাদের ছবি সম্পর্কিত হয়।  ছেলেদের ক্ষেত্রে এই মিথ্যা তথ্য তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে হয়।

অসামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে: জীবন সঙ্গী খুঁজে পেতে, ভালোবাসার মানুষের অনুসন্ধানে অনেকে অনলাইন মাধ্যম গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়, এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অনেক অসাধু ব্যক্তি তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা শুধু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সঙ্গী খুঁজতে অনলাইন মাধ্যম গুলোকে ব্যবহার করে, এদের কে চিনে নিতে হবে।  ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতাটা বেশী।

প্রতারক চক্র : অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে যেমন সঙ্গী নির্বাচন সহজ হয়েছে তেমনি অসাধু প্রতারক চক্রের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই চক্রগুলো অনেক সময় ভালোবাসার মানুষ সেজে আপনার কাছ থেকে বিভিন্ন পার্সেল পাঠানোর নাম করে কিংবা বিভিন্ন ধরনের লোভে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে, অনেকে সুযোগ ব্যবহার করে অন্যায় দাবী করে থাকে, অনেক রকম বিপদেও ফেলতে পারে।  এদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

সম্পর্কের স্থায়িত্ব কালঃ  অনলাইন মধ্যমে পরিচয় হয়েছে এরকম সম্পর্কের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তবে দেখা করেনা এবং বাস্তবে যারা সম্পর্কে যায় তাদের বেশীর ভাগ প্রথম বছরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।  বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমে পরিচিতদের সংখ্যা তুলনামূলক একটু বেশী, তবে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিবাহিত সুখী দম্পতির সংখ্যাও কিন্তু কম না।

অনলাইন মাধ্যম গুলোতে খুব সহজে অনেককে পাওয়া যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বেশী থাকে ফলে মানুষের বাছবিচার করার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।  মাধ্যম যেটাই হোক  জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে তা না হলে আমরা সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে পাবো না।