কিছু কথাঃ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন!

এখনো পৃথিবীর অনেক দেশে বিবাহিত নারীরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র স্বামীর একতরফা আকাঙ্খার কারনেই শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য হয়, আর এতে অস্বীকৃতি জানালে  অনেক সময় সহ্য করতে হয় নানা মানসিক গঞ্জনা।  কখনো আবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়।  ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে আইন পাস করা হয়। এই আইন পাসের আগে যুক্তরাষ্ট্রেও বিবাহিত নারীদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ক্ষেত্রে স্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্যই দেয়া হত না।

প্রতিটা দাম্পত্য জীবনে পরিপূর্ন সম্পর্কের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর শারীরিক সম্পর্ক, শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন জরিপ, বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশিত হয়েছে।  এ বিষয়ে ফিলোসফির অধ্যাপক- Mark D. White এর মতধারা হুবহু তুলে ধরা হলো,

We rarely, if ever talk, about the ethics of a spouse refusing to have sex with the other for years. Because we see sex as something that must be consented to, we are loathe to say a husband or wife “owes” the other sex, yet few people don’t want and expect a healthy sex life when they say “I do.”

শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন নৈতিক কারনে বছর ধরে একে অন্যকে বঞ্চিত করছে, এ বিষয়ে আমরা কোন আলোচনাো করতে চাই না।  কারন আমরা শারীরিক সম্পর্কটাকে বাধ্যতামূলক মনে করি, শারীরিক সম্পর্কটা স্বামী ও স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি হক। এ কথাটা বলতেও অনীহা দেখায়, অনেকে আবার মুখে সুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কথা বললেও, তারা  ব্যাক্তি জীবনে সেটা অনুসরণ করেন না।  

অসুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কারনে দম্পতিরা যে সমস্যা গুলো ভোগ করেন, আলোচনা করা হলোঃ

  • স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
  • স্বামী, স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ চলে আসার সুযোগ থাকে।
  • স্বামী, স্ত্রীর যে কারো বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • দম্পতির মধ্যে কলহ বৃদ্ধি পেতে থাকে, নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

দাম্পত্য জীবনে সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্বামী ও স্ত্রীকে যে বিষয় গুলো অনুসরণ করা উচিৎ – 

  • স্বামী বা স্ত্রী কেউ কাউকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোড় না করা।
  • একে অন্যের মন বুঝতে হবে, পরস্পরের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
  • দুজন কে এক সাথে একান্ত সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে, তখন পারস্পারিক বোঝাপড়া দৃঢ় হবে।
  • সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না, যত কঠিন সময়ই আসুক না কেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সময় দিতে হবে।
  • যদি মনে হয় কোন শারীরিক সমস্যা বোধ হচ্ছে, প্রয়োজনে মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে এবং এক্ষেত্রে একে অন্যের পাশে থাকতে হবে।

বিবাহিত বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া একটা অনৈতিক কাজ।  একটা সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর, আর যদি সে বিশ্বাস ভেঙ্গে যায় তবে সম্পর্কের আস্থাটা আর থাকে না।  একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্যই  বিশ্বস্ত সম্পর্ক ও সুস্থ যৌন সম্পর্ক অতি আবশ্যক।