জীবন একটা উপহার যারা বুঝে তারাই সুখী!

জীবন একটা উপহার।  কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে কতোজন জীবনকে এভাবে দেখেন? সংখ্যাটা খুব কম। যারা জীবনকে একটা উপহার হিসেবে ভাবতে পারেন তারাই প্রকৃত সুখী। আমরা যখন কোনো উপহার পাই তখন কী করি? খুব যত্ন করে রাখি উপহারটা, তাই তো? তাহলে জীবনের বেলায় কী করা উচিত? যে উপহারটা আর কখনো পাবো না সেটাকে তো সবটুকু চেষ্টা দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করা উচিত।

লালনফকির আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এমন মানবজনম আর কি হবে?’ না, প্রিয় পাঠক, এই জীবন আর ফিরে আসবে না। তাই মনীষীগণ এই জীবনের সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর বারবার গুরুত্বারোপ করে গেছেন। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না কী করে এর সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হয়। কী করে জীবনের অসুখগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনতে হয়। তাই এই মূল্যবান জীবনের নির্মম অপচয় ঘটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবনের অসুখগুলো চিনে নিয়ে প্রতিরোধ করা গেলে একটা অনিন্দ্য যাপন খুবই সম্ভব।

সময় বয়ে যায়ঃ

‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’, কথাটি সবাই জানি। কিন্তু মানি কয়জন? সময় খুব দ্রুত চলে যায়, দিনগুলো বছরে পরিণত হয়। আমরা সর্বদা গন্তব্য নিয়ে ভাবি। কিন্তু কোত্থেকে শুরু করতে হবে সেটাই ভুলে যাই। শুরু না করলে তো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতীত আর ভবিষ্যতকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বঞ্চিত করা হয় বর্তমানকে। একটু সময় নিয়ে ভাবুন, বর্তমানই সত্য। এই একটুখানি সময়ই হয়তো বদলে দেবে আপনার জীবন বদলে দেবে।

সুখ নামের অচিন পাখিঃ

প্রতিদিন ভুল করার অসংখ্য সুযোগ আসে।চারিদিকে বিভিন্ন ভাঁওতাবাজির খপ্পড়ে পড়ে আমরা প্রায়শই ভুল করে থাকি। আপনার বাইরের পরিবেশকে যদি প্রধান করে তোলেন তাহলে সুখপাখি কখনো আপনার কাছে ধরা দেবে না। নিজের ভিতরে ডুব দিয়ে দেখুন সুখ আছে সেখানেই। কেবল চিনে নেয়ার অপেক্ষা। যদি আপনি সুখ খুঁজে না নিতে পারেন তবে আপনি নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। সুখ একটি পরিচর্যার বিষয় যা বেশিরভাগ মানুষই জানে না।

সবাই নেশাগ্রস্থঃ

আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো নেশায় আসক্ত। আমরা কেবল চাই আর চাই। ভাবি বুঝি বেশি জিনিস ভোগ করলে বেশি সুখ পাওয়া যাবে। বাজে নেশাগুলো যে অসুখের আরও গভীরে নিয়ে যায় তা বুঝি না। কেমন হয় যদি বাজে নেশাগুলোকে ভালো নেশাগুলো দিয়ে পাল্টে দেয়া যায়?

ভুলে যাওয়াঃ

আপনি যদি এই লেখাটি পড়তে পারেন তাহলে ধরা যাবে যে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। মানে আপনি অন্যদের তুলনায় ভাগ্যবান।কারণ আপনি তথ্যগুলো জানতে পারছেন। তবে এটা ভেবে খুশি হওয়ার কারণ নেই যে নিজেকে না জেনে আপনি অনেক পাণ্ডিত্য অর্জন করলেই সুখী হতে পারবেন। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবুন জীবন আপনাকে কতো সুযোগ দিয়েছে তাই ভেবে।

সমস্যাগুলো গুরুতর নয়ঃ

আমরা কতো ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে মন খারাপ করে থাকি। হয়তো আপনি এই মুহূর্তে কোনো একটি কাজ না করতে পারার জন্য মেজাজ খারাপ করে আছেন। কিন্তু একবারও ভেবেছেন যে এই পৃথিবীর সমস্যাগুলোর কাছে আপনার সমস্যা কতো তুচ্ছ? বৈষ্ণিক উষ্ণতা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, এইডস্, ক্যান্সারের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে পৃথিবী চলছে অনায়াসেই। সুতরাং নিজের সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে পৃথিবীর সমস্যাগুলো নিরসনে নিজের অঙ্গীকার নিশ্চিত করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ

‘ধন্যবাদ’ শব্দটা কতোটুকু পছন্দ করি আমরা? প্রতিদিন কতোবার উচ্চারণ করি? কতোবার কৃতজ্ঞ হই? জীবনের কাছ থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি না কৃতজ্ঞতা থাকে। ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি মনে করিয়ে দেবে আপনি কতোটা ভাগ্যবান। প্রকৃতির নিয়মই হলো যা পাবে তা শতোগুণে ফিরিয়ে দেবে। এবার ভাবুন সমৃদ্ধি চান না নিঃস্বতা!

ভুলে যাওয়া ভালোবাসাঃ

আমরা কতোটা স্বার্থপর ভেবে দেখুন। সবসময় কেবল নিজের কথাই চিন্তা করি। সারাক্ষণ অভিযোগ করতে থাকি যে কেউ ভালোবাসে না,যত্ন নেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। ভুলে যাই প্রতিনিয়ত ভালোবাসায় ঋদ্ধ হচ্ছি। বাবা-মা, বন্ধু, সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি সেই দোকানদার যার কাছ থেকে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়। ভালোবাসা না পেলে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তা যেখান থেকেই আসুক না কেনো। তাই এটা কখনোই ভুলে যাওয়া সমীচীন নয়। তাহলে ভালোবাসাও আপনাকে ভুলে যাবে অচিরেই।

সম্ভাবনাঃ

প্রতিটি মানুষ সম্ভাবনাময়। সবাই মিলে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। এভাবে দক্ষতাও অর্জন করা যায়। চারিদিকে এত প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদেরকে কতো নিঃস্ব ভাবি! কেউ কারও সম্ভাবনা খুঁজে দেয় না, নিজেরটা আবিষ্কার করতে হয় নিজেকেই। তাই নিজের সাথে থাকা উচিত সবচেয়ে ভালো বোঝাপড়া। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমই সম্ভাবনাকে সফলতায় পরিণত করে।

একটি সঠিক সিদ্ধান্তঃ

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। এটি সাহায্য করবে অহেতুক দ্বিধা। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত করে দেবে আপনার জীবন। এটি সবসময়ই সঠিক যদি আত্মবিশ্বাস থাকে। এটি আপনার জন্য অপেক্ষমান সেরা উপহারটি এনে দেবে আপনার কাছে।

বাদ পড়া কষ্টময়ঃ

বাদ পড়া মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়া যায় না ‘না’ শব্দটি। ভেবে দেখুন সাফল্যগুকে কতোগুলো ‘না’ কে পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছুতে হয়। এটাকে একটা ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন। এখন যে ‘না’ টি শুনছেন সেটা সামনের কোনো সাফল্য বয়ে আনবে। সুতরাং একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরাজিতরা হাল ছেড়ে দেয়, জয়ীরা নয়। প্রতিটা বিষয় থেকে শেখার আছে। বাদ পড়াটাও তেমন একটা শিক্ষা যদি আপনি শিখতে পারেন।

দুর্ঘটনার ভয়ঃ

দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তবে সুখী জীবনের জন্য এটা খুব দরকার।  প্রত্যেকের জীবনেই দুর্ঘটনা ঘটে।  এটি জীবনেরই একটা অংশ। জীবনকে সহজভাবে দেখলে সহজ লাগবে, আর কঠিনভাবে দেখলে কঠিন। দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরী। নিচের কাজগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে-

– মেডিটেশন
– মানসিক চাপকে উপেক্ষা
– কৃতজ্ঞতা
– ভালো মানুষ হওয়া
– মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো

জীবনের অসুখগুলোকে চিনতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু যদি না চেনা যায় তবে? একটু একটু করে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকবে না। অসুখগুলোকে সুখে পরিণত করার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। আপনিই নির্ধারণ করবেন সুখের গুরুত্ব।